কষ্টার্জিত টাকা দেশে পাঠান তাঁরা। সেই টাকায় কিছুদিন সংসারও চলে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই অনেকের স্বপ্নভঙ্গ হয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি প্রবাসী জনশক্তি। এই জনশক্তির একটি বড় অংশই প্রবাসে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যায় নিজেদের জমি বন্ধক রেখে অথবা উঁচু সুদে টাকা ঋণ করে। স্বপ্ন একটাই—প্রবাসে কষ্ট করে কিছুদিন কাটিয়ে এলে ভিটেয় একটি নতুন ঘর উঠবে। সংসারে কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্য ফিরবে।


জীবনমান বদলের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো মানুষগুলো খেয়ে না-খেয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করেন। সেই কষ্টার্জিত টাকা দেশে পাঠান তাঁরা। সেই টাকায় কিছুদিন সংসারও চলে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই অনেকের স্বপ্নভঙ্গ হয়। নানা কারণেই স্বপ্নভঙ্গের ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রতারণার শিকার হয় বিদেশে পাড়ি জমানো জনশক্তির একটি বড় অংশ। দেখা যায় যে কাজের কথা বলে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই কাজে তাঁদের ব্যবহার করা হচ্ছে না।


এক মালিকের কথা বলে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পর অন্য মালিকের অধীনে কাজ করানো হচ্ছে। বড় প্রতারণার ঘটনা ঘটে বেতনের ক্ষেত্রে। যে বেতনের চুক্তি করে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই বেতনের চেয়ে অনেক কম বেতন দেওয়া হয়। দেশে ধার-কর্জ করে বিদেশে পাড়ি জমানো মানুষগুলো তা মেনে নিতেও বাধ্য হন। এর পরও সহ্য করতে হয় নানা অত্যাচার। নির্ধারিত শ্রম সময়ের চেয়ে বেশি সময় কাজ করানো হয়। নিয়মিত ওভারটাইম দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না। আর নারীকর্মীদের যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে যে সৌদি আরবে কাজ করতে যাওয়া নারীরা নানা নির্যাতনের পাশাপাশি যৌন নিপীড়নেরও শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ইকামা থাকার পরও সৌদি থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে প্রবাসী কর্মীদের। প্রতি সপ্তাহেই প্রবাসী কর্মীদের সদলে ফেরত আসতে হচ্ছে। সৌদি সরকারের বিশেষ অভিযানে আটক হয়ে অনেককেই ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। ধরপাকড়ের মুখে চলতি মাসে দেশে ফিরেছেন ৪৪১ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী।


স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে সক্রিয় হতে হবে। ইকামা থাকার পরও কেন অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আমরা আশা করব, অচিরেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *