রাসুল (সা.)-এর দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ মানুষ

হান আল্লাহ এই উম্মতকে সব উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যা তিনি পবিত্র কোরআনেই ইরশাদ করেছেন। সেই হিসাবে শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সব উম্মতই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু রাসুল (সা.)-এর হাদিসেও কিছু লোককে শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিবন্ধে সে ধরনের কিছু হাদিসই উল্লেখ করা হলো।
যারা কোরআন শেখে ও শেখায় : আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। এ ব্যাপারে মানবজাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে যুগে যুগে তিনি বহু নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের কাউকে কাউকে দিয়েছেন বিভিন্ন সহিফা ও কিতাব। আখেরি ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর তিনি অবতীর্ণ করেছেন মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, যাকে মহান আল্লাহ শ্রেষ্ঠ কিতাবের সম্মানে ভূষিত করেছেন। যাঁরা এই কিতাবের খিদমতে আত্মনিয়োগ করবেন, তাঁরাও শ্রেষ্ঠ। হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০২৭)

আলেম : আল্লাহর অবতীর্ণ শ্রেষ্ঠ কিতাবের খিদমতে জীবন উৎসর্গকারী সাধারণত আলেমরাই। তাই রাসুল (সা.) তাঁদেরও শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হজরত আবু উমামাহ আল-বাহিলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুজন লোকের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আলোচনা করা হলো। তাঁদের একজন আবেদ (সাধক, অধিক ইবাদতকারী) এবং অন্যজন আলেম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির ওপর আমার যতখানি মর্যাদা, ঠিক তেমনি একজন আলেমের মর্যাদা একজন আবেদের ওপর। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতারা এবং আসমান-জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া ও পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করে, যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৮৫)সত্যবাদী : হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলা হলো, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন, প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১৬)

বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী : একই হাদিসের শেষাংশে রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, সে হলো পূতপবিত্র নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ, যার কোনো গুনাহ নেই, নেই কোনো দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্ম-অহমিকা ও কপটতা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১৬)পাওনা পরিশোধে উদার : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.)-এর কাছে কোনো এক ব্যক্তির একটি বিশেষ বয়সের উট পাওনা ছিল। সেই পাওনার জন্য এলে তিনি সাহাবিদের বললেন, তার পাওনা দিয়ে দাও। তাঁরা সেই উটের সমবয়সী উট অনেক খোঁজাখুঁজি করলেন, কিন্তু পেলেন না। অবশ্য তা থেকে বেশি বয়সের উট পেলেন। তখন নবী (সা.) বললেন, তা-ই দিয়ে দাও। তখন লোকটি বলল, আপনি আমার প্রাপ্য পুরোপুরি আদায় করেছেন; আল্লাহ আপনাকেও পুরোপুরি প্রতিদান দিন। নবী (সা.) বললেন, যে পরিশোধ করার বেলায় উদার, সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। (বুখারি, হাদিস : ২৩০৫)

যে তার পরিবারের চোখে উত্তম : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সে-ই ভালো, যে তার পরিবারের কাছে ভালো। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের চেয়ে উত্তম।মৃত ব্যক্তির সমালোচনা বর্জনকারী : এই হাদিসের শেষাংশে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আর তোমাদের কোনো সঙ্গী মৃত্যুবরণ করলে তার সমালোচনা পরিত্যাগ করো। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৯৫)

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *