খাটের নিচ থেকে বের হয়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণ করলো শ্বশুর!

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দুই সন্তানের জননী পুত্রবধূকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত লম্পট শ্বশুর মো. সাইজুদ্দিনেরর বিরুদ্ধে।

গত ১০ এপ্রিল রাতে ১২নং মোকনা ইউনিয়নের করটিয়া কাজী বাড়ী গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। লম্পট শ্বশুর মো. সাইজুদ্দিন ওই গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে।

এ ঘটনায় বিচার না পেয়ে গত ২৯ আগস্ট টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৩৫৫নং মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগি মমতাজ ও তার পরিবার। মামলাটি এখন টাঙ্গাইল জেলা পিবিআইকে তদন্তের ভার হস্তান্তর করে ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন আছে।

বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ধর্ষিতা গৃহবধূর মামা।

লিখিত বিবরণে জানা যায়, গত ২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নাগরপুর উপজেলার মো. সাইজুদ্দিনের ছেলে রুবেলের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ৫ এবং আড়াই বছরের দুই সন্তান রয়েছে।

এরপর স্বামী রুবেল মিয়া সংসার চালাতে স্ত্রী সন্তান রেখে গত এক বৎসর পূর্বে বিদেশ চলে যায়। রুবেল বিদেশ যাওয়ার পর পরই লম্পট শ্বশুর সাইজুদ্দিন তার ছেলে বৌয়ের ওপর কুনজর দিতে শুরু করে। দিনের পর দিন লম্পট শ্বশুর তার লোভ-লালসার শিকার করতে ছেলে বৌয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার অভিনয় শুরু করতে থাকেন প্রতিনিয়ত।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, একপর্যায়ে অনৈতিক কাজের কুপ্রস্তাব দেয়। পুত্রবধূ তার শ্বশুরের কু-প্রস্তাব গোপনে তার শাশুরিকে জানান। পরে পুত্রবধূর এমন কথা বিশ্বাস করেননি শাশুরি। পরদিন রাতে লম্পট শ্বশুর পুত্রবধূর থাকার ঘরের পাশে ওৎ পেতে বসে থাকে। পুত্রবধূ প্রকৃতির ডাকে বাইরে গেলে লম্পট শ্বশুর চুপ করে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে খাটের নিচে বসে থাকে। পুত্রবধূ ঘরে প্রবেশ করলে সে সময় দরজা বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে মুখ চেপে পুত্রবূকে চাকু বের করে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলা ও তার দুটি সন্তানকে এতিম করবে বলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে ওই পুত্রবধূ মমতাজ ১২ নম্বর মোকনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন। তবে চেয়ারম্যান বলেন, কেউ এদের বিচার করতে পারবে না। তিনি কোর্টের মাধ্যমে মামলা করার পরামর্শ দেন।

এ ঘটনায় গেল আগস্ট মাসের ২৯ তারিখ টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৩৫৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন। এ অবস্থায় দুইটি সন্তান ও ধর্ষিতা পুত্রবধূ ও তার পরিবারের জীবন রক্ষার্থে সরকারের হস্তক্ষেপ কমনা করেন ভুক্তভুগিরা।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *