এবার বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনতে নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে! দেখুন কি আছে এই নীতিমালায়…

0

বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানির বিধান রেখে ‘স্বর্ণ নীতিমালা–২০১৮’ এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত কমিটি। আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, এখন আমরা স্বর্ণ আমদানি করব। এতদিন তো আমদানি হতো না সব স্মাগলিং হতো। কোনোদিন স্বর্ণ এ দেশে আমদানি হয়নি।

আমদানিতে কি পরিমাণ ট্যাক্স দিতে হবে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, তেমন ট্যাক্স হবে না। তবে এক্ষেত্রে বাংলদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স ফি কত হবে সেটি পরে নির্ধারণ করা হবে।

নীতিমালা কার্যকরের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভা থেকে এই নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। তারপর কার্যকর হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে স্বর্ণালংকার রপ্তানির বাণিজ্যকে নিয়মের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে এ নীতিমালা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বর্ণ আমদানির পর ‘ভ্যালু অ্যাড করে’ আবার তা রপ্তানি করার সুযোগ থাকছে এই নীতিমালায়।

সচিব বলেন, স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একটা রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক হচ্ছে। এটার বৈশিষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিলার নিয়োগ করবে, যাদের মাধ্যমে (স্বর্ণ) আমদানি হবে। কারা কারা আমদানি করতে পারবে সেই ক্রায়টেরিয়া থাকবে। ফলে বৈধভাবে ব্যবসাটা ভালোভাবে চলবে।

আরো পড়ুন

বন্দুকযুদ্ধে নিহত নিরপরাধ হাবিবুর হত্যার নেপথ্যে র‌্যাবকাণ্ড (ভিডিও)

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যা মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে র‌্যাবের বিরুদ্ধে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত বৃহস্পতিবার (১৭ মে) দুপুরে নগরীর মোমিন রোড ঝাউতলা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর সাদা পোশাকধারী কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে তাকে হত্যা করে র‌্যাব। বুধবার (২৩ মে) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এ দাবি করেন নিহতের মেয়ে সানজিদা রহমান ইভা।\

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় জায়গা সংক্রান্ত প্রতিহিংসা পরায়ন মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার শিকার হয়ে হাবিবুর রহমানের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। সানজিদা ইভা বলেন,আমার বাবার কি অপরাধ ছিলো? তারা কেন আমার বাবাকে হত্যা করেছে? ছোট ছোট তিন সন্তান নিয়ে কিভাবে সংসারের হাল ধরবে উপার্জন অক্ষম মা? তার বাবা কখনো মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন না বলেওদাবী করেন ইভা। এসময় প্রায় ১৫ মিনিট ধরে একাধারে কেঁদেছে মেয়ে সানজিদা ও তার দু ভাই। সংবাদ সম্মেলনে তার ভাই আব্দুল আলী রাব্বি ও ছোটভাইসহ পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এভাবে কিছু প্রশ্ন রেখে প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সকলকে কাঁদালেন সম্প্রতি র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হাবিবুর রহমানের মেয়ে সানজিদা রহমান ইভা।

ইভা ও তার ভাইয়ের দাবি গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর মোমিন রোড ঝাউতলা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর সাদা পোশাকধারী কয়েকজন তার বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে মাদক ব্যবসায়ি সাজিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় জায়গা সংক্রান্ত প্রতিহিংসা পরায়ন মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার শিকার হয়ে হাবিবুর রহমানের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃত সত্য ও প্রকৃত ঘটনার সত্যতা এবং ঘটনার মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংবাদকর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছেন হাবিবুর রহমানের মেয়ে।

র‌্যাব দু’জনকেই মাদক ব্যবসায়ী উল্লেখ করে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হওয়ার দাবি করলেও তাদের মধ্যে হাবিবকে ওইদিন দুপুরে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে ‘ধরে নিয়ে’ গিয়ে রাতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

হাবিবের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে স্ত্রী মর্জিনা বেগম এবং দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে অনেকটা মানবেতর ভাবেই বসবাস করছেন । এসময় বড় ছেলে আব্দুল আলী রাব্বী এবং মেয়ে অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সানজিদা রহমান ইভাও বাবার জন্য কাঁদছিলেন।

হাবিবের ছেলে রাব্বি অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝাউতলা বায়তুল ফালাহ্ মসজিদে জোহরের নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর তাদের বাবাকে কয়েকজন লোক ধরে নিয়ে গেছেন বলে পাড়ার পরিচিতজনরা তাদেরকে জানিয়েছেন।

এ সময় মসজিদ থেকে বের হওয়া মুসল্লিরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয় দেন। মুসল্লিরা তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা হাবিবকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে দ্রুত চলে যান। একথা জানার পর তাদের মা’সহ কয়েকজন আত্মীয় মিলে নগরীর কয়েকটি থানা, ডিবি অফিসে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তারা প্রত্যেকেই হাবিব নামে কাউকে আটক করা হয়নি বলে তাদেরকে জানিয়েছে। রাতে টিভির খবরে ছবি দেখার পর ভোরে চমেক হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তাদের বাবার লাশ দেখতে পান।

হাবিবের শ্বশুর নজরুল ইসলাম বলেন, নগরীর ‘ঝাউতলায় জায়গার মালিকানা নিয়ে এক প্রভাবশালীর সাথে হাবিবের বিরোধ ছিল। তার জেরে ওই প্রভাবশালী প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তার মেয়ে ও মেয়ে-জামাইয়ের নামে বিভিন্ন সময়ে থানায় মিথ্যা মাদকের মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।

একাধিকবার পুলিশ হাবিবকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে হাবিব ওমানে চলে যায়। বিদেশ থেকে ফিরে কিছুদিন কাঁচা সবজির ব্যবসা করে এবং তবলীগে যায়। ছেলে রাব্বি বাবাকে নিয়ে চট্টগ্রাম কোর্ট ভবনে একটি চায়ের দোকান করতো। এখন প্রবাসী বোন ও বোন জামাইয়ের পাঠানো টাকায় সংসার চলে। সর্বশেষ প্রায় এক মাস কারাবাসের পর হাবিব গত মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পায়। সবখানে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিপক্ষ এবার র‌্যাব দিয়ে হাবিবকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করিয়েছে।

এদিকে হাবিব ধরে নিতে সহযোগিতাকারী র‌্যাবের সোর্স মোশারফও একই রাতে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মোশারফের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই র্যা ব হাবিবকে ধরে নিয়ে যায়। হাবিবের স্ত্রী মর্জিনা বলেন, র‌্যাবকে ভূল তথ্য দেয়ায় পরিণাম হিসেবে মোশারফকেও মরতে হয়। মর্জিনা জানান, হাবিবকে কেন ধরিয়ে দেয়া হয় এনিয়ে মোশারফ ও তার স্ত্রী নাজমার বাক বিতণ্ডা হয়। তবে এ সংক্রান্তে নাজমার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মর্জিনা জানান, বৃহস্পতিবার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ৯ টাকা নিয়ে বের হয়েছিল হাবিব। বাসার অদুরেই লাকী হোটেলে চা নাস্তা করেছিল হাবিব। তবে টাকা কম থাকায় দোকানদারকে বিল পরিশোধ করতে না পেরে বলেছিলেন কখনো মরে গেলে মাফ করে দিতে। এসময় ছেলেকে বলেছিলেন প্রথম রমজানের সেহরি খেতে তার জন্য আলুর ভর্তা তৈরি করতে।

হাবিবের ছেলে রাব্বি বলেন, হাবিবকে নিয়ে যাওয়ার পর বিকেল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে বাসার একটু দুওে র্যা বের একটি টহল টিম দাঁড়ানো ছিল। সেখানে তার মা’সহ গিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তাকে তার বাবাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এসময় র‌্যাব কর্মকর্তারা ওই গলিতে সিসি ক্যামেরা আছে কিনা তাদের কাছে জানতে চান। রাব্বি সিসি ক্যামেরা আছে জানালে র্যা ব কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে মহল্লা কমিটির কাছ থেকে সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ রুমের চাবি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেন। এসময় মহল্লা কমিটির লোকদের রুমের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। কিছুক্ষণ পর র‌্যাব কর্মকর্তারা বের হয়ে বলেন সিসি ক্যামেরায় কিছু নেই। কিন্তু মহল্লা কমি

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য দিন